দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’ নামে পাঁচ দফা দাবিতে ভারতে কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিগগিরই একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ‘ব্যক্তিগতভাবে’ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
সম্প্রতি প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কৌশল অবলম্বন করেই ইনস্টাগ্রাম-ভিত্তিক প্রচার অভিযানে নেমেছিল কোটাবিরোধীরা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিজেদের ইনস্টাগ্রাম পেজের ফলোয়ারদের যন্তর মন্তরে সশরীরে বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। ইনস্টাগ্রামে এই পেজটির প্রায় ৫৬ লাখ ফলোয়ার রয়েছে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে আন্দোলনকারীরা জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের পোক থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পোস্টটিতে আরও লেখা হয়, ‘মনে রাখবেন, আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি।’
এর আগে শুক্রবার রাতে জাতিভিত্তিক কোটার বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে বিশাল জনসমাগমের পর দিল্লি পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
কোটাবিরোধীদের ৫ দফা দাবি হচ্ছে–
১. অর্থনৈতিক অবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া: শিক্ষা, কোচিং, বৃত্তি এবং অন্যান্য খরচে সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে আর্থিক অবস্থাকে বিবেচনা করা উচিত। অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার সঙ্গে যুক্ত এক বিক্ষোভকারী বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, ‘আমাদের দাবি হলো কার সরকারি সহায়তা প্রয়োজন তা নির্ধারণের সময় অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিবেচনা করতে হবে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করা উচিত।’
২. কোটার ভেতরে কোটা: কোটাব্যবস্থার বিশদ পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের মতে, কোটার ক্যাটাগরির ভেতরে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীগুলোর কাছে সবসময় সুবিধা পৌঁছায় না। পিটিআইকে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে এই বিষয়টি তুলে ধরছি। সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বর্তমান ব্যবস্থা তার উদ্দীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে কিনা এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছাচ্ছে কিনা।’
৩. কোটার ওপর শ্বেতপত্র: আরেকটি দাবি হলো—গত আট দশকে কোটাব্যবস্থা এবং এর প্রভাব পর্যালোচনা করে সরকারের একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। বিহারের মুসাহার সম্প্রদায়ের উদাহরণ টেনে আন্দোলনকারীরা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কম হওয়ার কারণে এই গোষ্ঠীটি কোটাব্যবস্থা থেকে পর্যাপ্ত সুবিধা পায়নি।
৪. উচ্চশিক্ষায় ন্যূনতম নম্বর: আরেকটি প্রধান দাবি হলো–প্রিমিয়ার ইনস্টিটিউটসহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম নম্বর বজায় রাখা। বার্তা সংস্থা এএনআই-কে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘মেধার সাথে আপস করে আপনি উন্নত ভারতের স্বপ্ন বিক্রি করতে পারেন না। যদি যোগ্য ৫০ শতাংশ তরুণ-তরুণী আইআইটি, আইআইএম বা উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে না পারে, তবে আপনার দক্ষতা সেখানেই ৫০ শতাংশ কমে গেল।’
৫. ইডব্লিউএস সুবিধা সম্প্রসারণ: অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণিতে (ইডব্লিউএস) থাকা ব্যক্তিদের জন্য আরও বড় পরিসরে সুযোগ-সুবিধা দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
কে